এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ:সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্প সমৃদ্ধ এলাকা গুলোতে অটিষ্টিক ও প্রতিবন্ধি শিশু জন্মের হার ক্রমশ বাড়ছে। অপরিকল্পিত ভাবে তাঁত ও তাঁত শিল্পে ব্যবহ্নত মারাত্বক রাসায়নিক পদার্থ ক্রমশ ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে মিশে গিয়ে তা দূষিত করছে। আর সেই দূষিত পানি নলকুপের মাধ্যেমে তুলে পান করছে এলাকাবাসী। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্বক হুমকি স্বরুপ এই দূষিত পানি পান করার কারনেই মাতৃগর্ভে জন্ম নিচ্ছে অটিষ্টিক শিশু। এছাড়া নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এই এলাকার মানুষেরা।
গত একদশক ধরে বিষয়টি ব্যাপক ভাবে আলোচিত হলেও সমস্যা সমাধানে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জেলার বেলকুচি উপজেলার গাড়ামাসি গ্রামের শহিদুল্লাহ খান ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, তাদের বাড়ীর চার পাশে সুতা রং এর ডাইং ও প্রসেস মিল রয়েছে। এসব মিলের বর্জ্য যুক্ত রঙ্গিন পানি তার বাড়ীর চাপকলে উঠে আসছে। এসব পানি দিয়ে নানা রকম গন্ধ থাকলেও বাধ্য হয়েইে পান করতে হয়। যে কারনে তার ৬ বছরের শিশু কন্যা এশা মনি এই অটিজমের শিকার হয়েছে বলে ধারনা করেছে এশা মনির চিকিৎসক। এ জন্য শহিদুল্লাহ খান ও নাজমা বেগম তারা পরবর্তী সন্তান নিতেও ভয় পাচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা হয় একই উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শাহিন রেজা ও তার স্ত্রী সালমা খাতুনে সাথে তারা বলেন, আজ থেকে সাত বছর আগে তাদের ঘরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করে অটিজমের শিকার হয়ে। দেশের নামি দামি হাসপাতালের বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি। চিকিৎসক বলেছেন তার বাড়ীর নলকুপের পানি আর পান করা যাবেনা। বিষয়টি জানতে পেরে এ বাড়ীর পানি নিয়ে পরিক্ষা করে সম্প্রতি ঢাকার একটি প্রতিবেদনের টিম। আর তাতে পাওয়া যায় মারাত্মক ফসফেট, সীসা ও মাত্রা অতিরিক্ত আয়রন ও আরসেনিক ।
তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের জন্য দেশের অন্যতম একটি জনপদের নাম সিরাজগঞ্জ জেলা। তাঁত শিল্পের জন্য ব্যবহৃত সুতা রং এর বর্জ্য মিশ্রিত বিষাক্ত পানি এলাকার জলশায় গুলোতে ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরেই এই বর্জ্য ফেলার কারনে জলাশয় ভর্তি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কারখানার মালিকেরা পাইপ দিয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ভুগর্ভস্থ পানির স্তরে মিশিয়ে দিচ্ছে। যে কারনে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। এসব এলাকার নলকুপ চাপলেই এখন দূষিত পানি উঠে আসছে। আর এরকম ভয়ানক রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত পানি প্রতিনিয়ত পান করছে এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। চিকিৎসকদের মতে এমন দূষিত পানি পান করায় গর্ভবতী মায়েদের গর্ভে জন্ম নিতে পারে অটিষ্টিক শিশু।
সিরাজগঞ্জ জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তবিবুর রহমান তালুকদার জানান, এসব তাঁত শিল্প এলাকার সুতা রং কারার প্রসেস ও ডাইং মিলের বিষাক্ত বর্জ্য মিশ্রিত পানি সরাসরি নলকুপের পাইপ দিয়ে ভুগর্ভস্থ পানির স্তরে মিশিয়ে দিচ্ছে অসাধু মিল মালিকরা। যে কারনে এ অঞ্চলের নলকুপ গুলোর পানিতে মারাত্মক ডিজল অক্সিজেন, মেগানিস, ফসফেট, সীসা, মাত্রা অতিরিক্ত আয়রন ও আর্সেনিক পাওয়া গেছে।
সিরাজগঞ্জ সরকারী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ এবং শিশু রোগ বিষেশজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, যদি কোন গর্ভবতী মা কিংবা শিশু ডিজল অক্সিজেন, মেগানিস, ফসফেট, সীসা মাত্রা অতিরিক্ত আয়রন ও আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করে তা হলে ঐ গর্ভবতী মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় সন্তান অটিজমের শিকার হতে পারে আবার ছোট শিশুরাও যদি এ পানি পান করে তাহলে তাদেরও একই রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে বলে তিনি জানান।
বছর শেষে শুধু একবার করে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালনের মাধ্যমে ক্ষান্ত না থেকে অটিজম ও প্রতিবন্ধি হওয়ার কারণ গুলো চিহ্নিত করে কতৃপক্ষ তা নিমূলের ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভূক্ত ভোগী পরিবার গুলো।