চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নিখিল দাস ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন আজ ৮ এপ্রিল সংবাদপত্রে দেওয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবার ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি বাদ দিয়ে বৈশাখী শোভযাত্রা করেছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার আনন্দ শোভাযাত্রা নাম দিয়ে করেছে। মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপের মুখে প্রথমে সংস্কৃতি মন্ত্রী মঙ্গল শোভাযাত্রা বললেও পরবর্তীতে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেন। গত শতকের আশির দশকে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের পটভূমিতে ‘মঙ্গল শোভযাত্রা’ শুরু হয়। ২০১৬ সালে এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্থান পায়। ‘মঙ্গল’ শব্দটি এই শোভাযাত্রায় অশুভের বিরুদ্ধে শুভের জয় ও জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। ১লা বৈশাখ বাঙালীর সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এ দেশের জনগণ এই উৎসব পালন করে আসছে। কিন্তু একটি চিহ্নিত ধর্মান্ধ গোষ্ঠী বাংলার এই চিরায়ত উৎসবটি গ্রহণ করতে পারছে না। ফলে এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। বাংলাদেশের সংস্কৃতির ভিত্তি যে বহুত্ববাদ, সহনশীলতা, মু্ক্তচিন্তা-অসাম্প্রদায়িকতা তারা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারে না। বর্তমান সরকারের এই উগ্র গোষ্ঠীর কাছে আত্মসমর্পণ বাংলার আবহমানকালের সংস্কৃতির উপর আঘাত। এটি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। নচেৎ চারণসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে আলাদা শোভাযাত্রার আয়োজন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।