আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণ সতর্কতা ও নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।
দূতাবাসের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক সমাবেশ, ভোটকেন্দ্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়—যেমন মসজিদ, মন্দির ও গির্জাকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক সহিংসতা বা চরমপন্থী হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনেক সমাবেশও হঠাৎ করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে সহিংস রূপ নিতে পারে। এ কারণে যেকোনো ধরনের বড় জনসমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলার জন্য নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সব সময় সজাগ থাকার এবং জনবহুল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন সচল রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদারে যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর অংশ হিসেবে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এছাড়া ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের সাধারণ যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
এই পরিবহন সংকট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে গ্রহণ করা যায়—এমন পরিষেবাগুলো অত্যন্ত সীমিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
দূতাবাস তাদের নাগরিকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বা করণীয় তালিকাও প্রকাশ করেছে। এতে বড় জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চলাচলের ক্ষেত্রে আগে থেকেই বিকল্প রাস্তা নির্ধারণ করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতির শেষাংশে জানানো হয়, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।