শিরোনাম :
সংস্কার ও উন্নয়ন উদ্যোগের দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে সরকারের অগ্রগতির চিত্র ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত, এপ্রিলে ১৩ হাজার টন ডিজেল দেশে প্রবেশ মার্কিন প্রস্তাবে সাড়া নয়, শর্ত না মানলে আলোচনায় নয় গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি প্রাণহানি, উদ্বেগে জাতিসংঘ  নিম্ন-কার্বন প্রযুক্তিতে গার্ডেন এক্সপোর বিশেষ গুরুত্ব চীনা ভাষার প্রসারে বৈশ্বিক উদ্যোগ চার দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় সি’র কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান রাখাইনেই নিহিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্ত সুরক্ষা ও বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দিনাজপুরের বিরলে নতুন বিওপি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সুষম উন্নয়নে সমতলের সাথে সমভাবে এগোবে পাহাড়:পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পুনরুজ্জীবন: সুশাসন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন দিগন্ত

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের বিতর্ক, সংগ্রাম ও আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত করার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ যে রায় দেন, তা দেশের নির্বাচনব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক কাঠামো ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার জানান, এই রায় দেশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পথকে সুগম করবে। তার মতে, তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের রায়ের ফলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা কার্যত নির্বাসনে চলে গিয়েছিল। পরবর্তী তিনটি জাতীয় নির্বাচন ছিল বিতর্ক ও প্রশ্নবিদ্ধতার ছায়ায়। ফলে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, রাজনীতিতে স্থিতি আনা এবং সুষ্ঠু ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, দীর্ঘ সময়ের সংগ্রাম, ধারাবাহিক আন্দোলন এবং অবিচল প্রচেষ্টার ফসল হলো এই রায়। তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর থেকেই এর অসাংবিধানিকতা তুলে ধরে নিয়মিত লেখালেখি এবং জনমত গঠনের কাজ করে আসছেন। একইভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়েও তিনি আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

এ সময় তার আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া রায়ের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, আজ আদালত স্বচ্ছ ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন—খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় সম্পূর্ণভাবে বাতিল। এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আবার সংবিধানে ফিরে এসেছে এবং এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি মাইলফলক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান পুনর্বহালের সিদ্ধান্তটি একদিনে হয়নি। ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে চৌদ্দতম সংশোধনীর অংশ হিসেবে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করা হয়। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচন নিয়ে অনাস্থা এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। ২০২৩ সালে সরকারের পরিবর্তনের পর আবারও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন গ্রহণ করেন। এরপর বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ারসহ আরও অনেকে আপিল করেন। একাধিক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জমে ওঠা এই আইনি লড়াই শেষ হলো দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গভীর প্রভাব ফেলার মতো এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

শুনানির সময় বিএনপি, জামায়াত ও আপিলকারীর আইনজীবীরা মত দেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও চলমান নির্বাচনী চক্র অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। তবে পরবর্তী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গণতন্ত্রের কর্মপদ্ধতি পুনর্গঠনে এই রায় নিঃসন্দেহে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের যে দাবি দীর্ঘদিন ধরে উঠছিল—এই রায় সেই দাবিকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাই এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD