৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আর এখন চীনের বার্ষিক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রম- দুই অধিবেশন চলছে। দেশের বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন মহলের নারী প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন, দেশের উন্নয়নে নিজের প্রস্তাব দিচ্ছেন। চীনে একটি কথা প্রচলিত আছে: নারীরা অর্ধেক আকাশের মত কাজ করতে পারে। আজ দুই অধিবেশন থেকে নারী প্রতিনিধিদের কণ্ঠ আপনাদের শোনাবো। তাঁদের মধ্যে আছেন নারী ফুটবল কোচ, পান্ডা গবেষক, আরো আছেন বিমানবাহী জাহাজের নারী সেনা।
চীনের নারী ফুটবলের কোচ সুই ছিং সিয়া চতুর্দশ এনপিসির প্রতিনিধি। ফুটবলের সঙ্গে তাঁর ৪০ বছরের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ১৬ বছর বয়সে কোচ সুই-এর নেতৃত্বে চীনা নারী ফুটবল দল আবারও এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়। তিনি দুই অধিবেশনে নারী ফুটবল দলের কঠিনতা কাটিয়ে পুনরায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনের গল্প শেয়ার করেছেন। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা চীনা নারী খেলোয়াড়রা কখনই ত্যাগ করেন নি। প্রতিনিধি সুই বলেন, চীনের বিভিন্ন মহলে, বিভিন্ন খাতে এমন ঐক্যের চেতনা আছে, গোটা দেশ এই কারণে আরো ভালো হতে পারে। চীনা নারীরাও এমন চেতনা লালন করে।
চীনের বৈশিষ্ট্যময় আধুনিকায়ন হলো মানুষ এবং প্রকৃতির সুষম সহাবস্থানের আধুনিকায়ন। দুই অধিবেশনে চীনের ছেং তু পান্ডা বংশবৃদ্ধি গবেষণা ঘাঁটির উপ-পরিচালক হৌ রুং পান্ডার সঙ্গে তাঁর গল্পের কথা জানিয়েছেন। তিনি ও সহকর্মীদের চেষ্টায় ৩০ বছরের মধ্যে ঘাঁটির পান্ডার সংখ্যা ১৯৯৪ সালের ১৮টি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ২৩৭টিতে। অর্থাত্ ১২ গুণ বেড়েছে। তিনি বলেন, পান্ডার বংশবৃদ্ধি একটি পর্যায়ের লক্ষ্য। চূড়ান্ত লক্ষ্য হল পান্ডা আবারও প্রকৃতিতে ফিরে যেতে পারবে। বুনো পান্ডা চিরদিনের জন্য বংশবৃদ্ধি করতে পারবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে সবার উচিত ভালোভাবে পান্ডার বসবাসের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করা।
তাঁর মতে, দশ বছরে চীনের প্রাকৃতিক সভ্যতার বিরাট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। জাতীয় উদ্যান আগের একটি টার্ম থেকে বাস্তবায়িত হয়েছে। পান্ডা জাতীয় উদ্যানসহ চীনের প্রথম দফা জাতীয় উদ্যান ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে। চীনের প্রাকৃতিক সংরক্ষণ একটি নতুন ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। প্রাকৃতিক সভ্যতার চেতনা ইতোমধ্যে মানুষের মনে প্রবেশ করেছে। বন্য পান্ডা নিশ্চয় চীনে আরো সুষ্ঠু ও আরামে বেঁচে থাকবে।
দুই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী সু ইউয়ে মেং একজন নারী সেনা। তিনি চীনের নৌবাহিনীর একজন সদস্য এবং নিজের চোখে চীনের বিমানবাহী জাহাজের উন্নয়ন দেখেছেন। দশ বছর ধরে চীনের বিমানবাহী জাহাজ লিয়াও নিং ধাপে ধাপে উন্নত হচ্ছে, তিনি এই বিমানবাহী জাহাজে আট বছর ধরে কাজ করেছেন। এই জাহাজের সঙ্গে উন্নত হতে পেরে তিনি খুব গর্ব বোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর কাছে ৩০ বছর ধরে সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা সেনা আছে, আছে তরুণ প্রজন্মের নতুন সেনা, আরো অনেক নৌ-সেনা, যারা দীর্ঘসময় ধরে পানির নিচের কেবিনে থাকেন, সূর্যের দেখা পান না। তবে তারা মনের চোখে সূর্য দেখেন। সঙ্গে আছে দেশের ১৮টি সংখ্যালঘু জাতির সেনা; আরো আছে ‘অর্ধেক আকাশের মত গুরুত্বপূর্ণ’ নারী সেনা, নারী রেডার সেনা, নারী বিদ্যুত্ সেনা ইত্যাদি। সবাই নিজেদের যৌবনকে চীনের বিমানবাহী জাহাজের জন্য উৎসর্গ করেছেন।
বন্ধুরা, এসব নারী প্রতিনিধির গল্প কেমন লাগল? আপনি কি মুগ্ধ হয়েছেন? চীনে তাঁদের মত অনেক নারী আছেন, তাঁরা সবাই নিজের আলো দিয়ে অন্যকে উষ্ণ করেছে, দেশের উন্নয়নের পথ আলোকিত করেছে। এই বিশেষ দিন- দেশ বিদেশের সব নারীকে জানাই নারী দিবসের শুভেচ্ছা।