সম্পাদকীয়:নারী প্রার্থিতা-রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই বড় বাধা

সম্পাদকীয়:
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সম্পাদকীয়:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থী হয়েছেন মাত্র ৭৮ জন-মোট প্রার্থীর ৪ শতাংশেরও কম। সংখ্যাটি ইতিহাসের তুলনায় অগ্রগতি হলেও বর্তমান সময়ের প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক। বিশেষত যখন দেখা যায়, নারী প্রার্থীদের ৭৭ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত এবং ৬৫ শতাংশ কর্মজীবী—অর্থাৎ যোগ্যতা ও সক্ষমতায় তাঁদের কোনো ঘাটতি নেই।

রেখাপাত করলে আরও স্পষ্ট হয়, নারী অংশগ্রহণ কমার মূল কারণ ভোটারদের মানসিকতা নয়; রাজনৈতিক দলেরই সদিচ্ছার ঘাটতি। ২৬টি দল ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে সম্মত হলেও বড় দলগুলোর মনোনয়ন সংখ্যা সেই প্রতিশ্রুতির ধারেকাছেও নেই। বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে ৩.৪ শতাংশ নারীকে; আরও ৩০টি দল কোনো নারী প্রার্থীই দেয়নি। ফলে নারীর নেতৃত্ব বিকাশের যে ন্যূনতম কাঠামো তৈরির কথা ছিল, তা বাস্তবে গুরুত্ব পায়নি।

মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ভিন্ন গল্প বলছে। বহু নারী প্রার্থী জানিয়েছেন, ভোটাররা তাঁদের স্বাগত জানাচ্ছেন, অনেকেই নারী প্রার্থী পেয়ে গর্বও করছেন। তবু নির্বাচনী প্রচারে হামলা, ব্যানার ছেঁড়া, নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, এমনকি টেলিভিশন আলোচনায় অংশ নিতে বাধা—এসব ঘটনা দেখায়, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো নারী-বান্ধব নয়।

রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত আসনকে নারীর রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ‘সমাধান’ হিসেবে ধরে রেখেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, সংরক্ষিত আসনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সীমিত; প্রয়োজন সাধারণ আসনে মনোনয়ন ও দলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারীদের শক্ত অবস্থান। ২০৩০ সালের মধ্যে দলীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না হলে দলীয় নিবন্ধন বাতিলের বিধান প্রয়োগ—এখনই নির্বাচন কমিশনকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।

নারীরা যোগ্য, কর্মক্ষম এবং নেতৃত্বে সক্ষম এটাই সর্বশেষ পরিসংখ্যানের মূল বার্তা। বাধা শুধু রাজনৈতিক কাঠামোর সংকীর্ণতা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যিই গণতন্ত্রকে শক্ত করতে চায়, তবে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো শুধু নৈতিক দায় নয়-এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যতেরও অপরিহার্য শর্ত।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD