বুধবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আট খণ্ডে বিভক্ত ঐ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা। প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ, সভার কার্যবিবরণী ও আলোচনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের বোঝার উপযোগী করে তৈরি করতে হবে। বই আকারে প্রকাশ করতে হবে, যাতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এটি পড়ে বুঝতে পারে এবং অন্যদের বুঝাতে পারে।” তিনি বইটি বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই প্রকাশের পরামর্শ দেন।
ড. ইউনূস আরও বলেন, “ভবিষ্যতে এই বইটি যেন শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যপাঠ্য হয়ে ওঠে, সেটি বিবেচনায় রাখতে হবে। তরুণ প্রজন্ম বইটি পড়বে, নিজেরা জানবে এবং তাদের বাবা-মাকেও জানাবে এতে কী আছে।”
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
এসময় প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, “আট খণ্ডের এই প্রতিবেদনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’, কমিশনের কার্যপ্রক্রিয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে প্রাপ্ত লিখিত প্রস্তাবনা, সাধারণ মানুষের মতামত, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপের বিস্তারিত নথি সংযোজিত আছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের বিশ্বাস, ভবিষ্যতে এই প্রতিবেদন দেশ-বিদেশে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
এই উদ্যোগকে অনেকেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।