আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা কোনো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নয়, বরং সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; চারাগাছের সঠিক পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে এটিকে সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ ঈদগাহ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘এক দিনে ১ লাখ বৃক্ষরোপণ’ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে উপদেষ্টা বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিখ্যাত ১৯ দফা কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় এ কর্মসূচি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ লাভ করে। দেশে ইতোমধ্যে বৃক্ষরোপণের কার্যকর সামাজিক কাঠামো তৈরি হয়ে আছে। সেই ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করার তাগিদ দেন তিনি।
ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যা অঙ্গীকার করে, তা বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে; কোনো পরিকল্পনাই কেবল কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ থাকে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনের সময় থেকেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও গবেষণা চলেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই সরকার ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। যার বড় প্রমাণ—প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য ফার্মার্স কার্ড, খাল খনন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃতিবান্ধব করতে ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান প্ল্যান্ট’ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে গত জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ২ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার ৪২৮টি চারা রোপণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে মূল হিসাবের আওতায় আনা গেলে এই অর্জনের পরিসংখ্যান আরও বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রামের ভূপ্রকৃতি নিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়, সমতল ও সমুদ্রবেষ্টিত এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক রূপ অনন্য হলেও পাহাড়ধসের মতো পরিবেশগত ঝুঁকি এখানে অত্যন্ত বেশি। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দুর্যোগ ঘটে যাওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়ার চেয়ে আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রশাসনকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। একই সাথে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে শীর্ষ ভুক্তভোগী দেশ উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন যে, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশ এখনও প্রত্যাশিত সহায়তা পায়নি। তাই বিশ্বনেতৃত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় তহবিল বরাদ্দের আহ্বান জানান তিনি।
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া সদর দপ্তরের এসপিপি কর্নেল খলিল উল্লাহ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম, সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী, সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। এছাড়াও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: তথ্য বিবরণী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পিআইডি