সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার করে মালিক, শ্রমিক, যাত্রী ও প্রশাসনের সমন্বিত প্রয়াসের ওপর জোর দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। তিনি জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কে পূর্ণ শৃঙ্খলা ফেরাতে আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, “আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই; নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে পরিবহন খাতের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।” এ সময় সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত ও নির্ভুল পরিসংখ্যান সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তি ছাড়া কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অসম্ভব।
পরিবহন মালিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চালক সংকটের অজুহাতে অদক্ষ চালক বা ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। চালকের অভাবের দোহাই দিয়ে সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা চলবে না। মালিকেরা যোগ্য মনে করলে চালকদের সুপারিশ করতে পারেন, সরকার যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সাপেক্ষে তাদের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই নিজস্ব উদ্যোগে দক্ষ চালক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের চলমান নিরাপত্তা উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম জানান, যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ, হেলমেট ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় দুর্ঘটনাপ্রবণ বিপজ্জনক স্থানগুলোর (ব্ল্যাক স্পট) ঝুঁকি কমানোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এছাড়া মহাসড়কের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থলগুলোতে দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেপরোয়া চালনা ও আনফিট গাড়ির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম এমপি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি। এছাড়া বাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রেস ব্রিফিং