যুক্তরাষ্ট্রের মেগা জ্বালানি প্রকল্প ‘আলাস্কা এলএনজি’ থেকে উৎপাদিত মোট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ৩০ শতাংশ ক্রয় করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে তাইওয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ান নিশ্চিত করেছে, তারা এই প্রকল্পে প্রায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্যাস ক্রয়ের আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তাইওয়ানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘সিপিসি কর্পোরেশন’ টানা দেড় বছর ধরে কারিগরি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাইয়ের পর এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, বার্ষিক ২ কোটি মেট্রিক টন উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন এই বিশালাকার প্রকল্প থেকে সিপিসি বছরে ৬০ লাখ টন আলাস্কা এলএনজি আমদানি করবে এবং প্রায় ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক বিনিয়োগে অংশীদার হবে।
আলাস্কার ৮০০ মাইল দীর্ঘ এই সমন্বিত পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার। প্রকল্পটির চূড়ান্ত বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে নির্ধারিত হবে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩১ সালের দিকে সেখান থেকে প্রথম চালান রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এশীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর কাছে এই প্রকল্পটিকে প্রধান জ্বালানি করিডোর হিসেবে তুলে ধরছে। এই পাইপলাইনের বড় সুবিধা হলো—সংকীর্ণ পানামা খাল বা সুদূর আফ্রিকা মহাদেশ অতিক্রম না করেই মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে সরাসরি এশিয়ার বাজারে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের বিদ্যমান বিশাল অঙ্কের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমাতে এবং ওয়াশিংটনের অসন্তোষ নিরসনের কৌশলগত অংশ হিসেবেই তাইপেই এই মেগা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চলতি বছর তাইওয়ান তাদের মোট আমদানিকৃত গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মহাসচিব প্যান মেন-আন সরেজমিনে আলাস্কার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন।
তবে দীর্ঘ দূরত্বের পাইপলাইন এবং মাত্রাতিরিক্ত নির্মাণ খরচের কারণে এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব ও লাভজনকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে গভীর সংশয় রয়েছে। যদিও তাইওয়ানের পাশাপাশি ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট ‘টোটালএনার্জিস’ এবং এশিয়ার বেশ কয়েকটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এতে যুক্ত হয়েছে, তবুও প্রকল্পটি বাস্তবে সফলভাবে চালু করতে হলে অংশীদারদের সঙ্গে এখনও আরও বেশ কিছু জটিল ও চূড়ান্ত আইনি চুক্তি সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।