“পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা”-এর খসড়ায় বলা হয়েছে: ভবিষ্যৎ শিল্পগুলোকে দূরদর্শিতার সঙ্গে অবস্থান করতে হবে। কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈব উৎপাদন, হাইড্রোজেন শক্তি ও পারমাণবিক সংযোজন শক্তি, মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস, এমবডিড ইন্টেলিজেন্স, ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগ প্রযুক্তিকে নতুন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে এই ভবিষ্যৎ শিল্পগুলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থেকে প্রয়োগের দিকে যাত্রা ত্বরান্বিত করবে, প্রতিনিয়ত নতুন উন্নয়নশক্তি সৃষ্টি করবে।
দেশের সবচেয়ে বড় হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন কারখানায় কিছু উন্নত সংস্করণের রোবট সবেমাত্র উৎপাদন লাইন থেকে নেমেছে, যারা চিন্তা করতে ও মিথস্ক্রিয়া করতে সক্ষম। অনুভূতির এই ব্যাপক উন্নতি এসেছে একেবারে পাশের কারখানা থেকে। এখানে ১০০টিরও বেশি বাস্তব দৃশ্যে একই সময়ে প্রশিক্ষণ চলছে। ভারী জিনিস তোলা, সূক্ষ্ম সূঁচে সুতা পরানো, ফল কাটা—এবং বড় মডেলের মাধ্যমে একটি রোবট যা শিখে, তা সব রোবটই আয়ত্ত করতে পারে, তারপর দ্রুত বড় আকারের উৎপাদন-লাইনে চলে যায়।
“পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা”-এর প্রথম বছরে এমবডিড ইন্টেলিজেন্স রোবটের বিকাশের গতি কল্পনাকেও হার মানিয়েছে। মাত্র প্রথম দুই মাসেই বিনিয়োগের পরিমাণ ২০২৫ সালের পুরো বছরের অর্ধেকের সমান হয়েছে। দ্রুত বর্ধনশীল এই বাজার ভবিষ্যতের বিশাল সম্ভাবনা দেখছে। “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা”-এর খসড়ায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ শিল্পের জন্য একটি সম্পূর্ণ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
এই সম্পূর্ণ শৃঙ্খল গড়ে তোলার পরিধি কতটা বিস্তৃত হবে? একটি এমবডিড ইন্টেলিজেন্স রোবটের সঙ্গে ১০০টিরও বেশি সংশ্লিষ্ট শিল্প জড়িত। শুধু এর কাঠামোই আগামী পাঁচ বছরে অত্যাধুনিক ইস্পাতের দেশীয়করণের হার ৩০% থেকে ৭০%-এর ওপরে উন্নীত করতে পারে।
এই সম্পূর্ণ শৃঙ্খলের গভীরতা কতটুকু? একটি সূক্ষ্ম হাতের আঙুলের ডগার ত্বকের জন্যই ৩০টিরও বেশি পেটেন্ট রয়েছে; প্রায় ২০টি জয়েন্টের প্রতিটিতে প্রায় ১০ ধরনের নিয়ন্ত্রণ ইউনিট রয়েছে। এই একটি হাত তৈরিতে প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা করছে।
এই কয়েকদিন ধরে “এমবডিড ইন্টেলিজেন্স”-কে কেন্দ্র করে একাধিক উদ্ভাবনী গবেষণাগারের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড় মডেল, কঠিন-অবস্থার ব্যাটারির মতো উদীয়মান শিল্পই নয়, বরং অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্পও উদ্ভাবনী উন্নয়নে অংশ নিচ্ছে। এই সদ্য-প্রতিষ্ঠিত টেন্ডন গবেষণাগারটি রোবটের জয়েন্টের নমনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করতে পারে এবং এর মূল দলটি এসেছে একটি বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে। “পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা” বাস্তবায়নকালে শিল্পশৃঙ্খলের ঊর্ধ্ব ও নিম্নপ্রবাহে প্রায় ১০০টি নতুন উদ্ভাবনকেন্দ্র ও গবেষণাগার তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে; প্রায় ৫০০টি বিশেষায়িত ও অভিনব উদ্যোগ গড়ে উঠবে, যা সামগ্রিক শিল্পের আকার ১০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ শিল্পের আকার কয়েক হাজার কোটি বা ট্রিলিয়ন টাকার মাইলফলক অতিক্রম করবে। একই সঙ্গে ডেটা সংগ্রাহক, রোবটের সমন্বিত ক্রিয়াকলাপ প্রকৌশলীসহ ১০ লাখেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
“পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনা”-এর খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবিষ্যৎ শিল্পগুলোর জন্য বহুমুখী প্রযুক্তিগত পথ এবং প্রতিনিধিত্বমূলক প্রয়োগের দৃশ্য অন্বেষণ করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে এমবডিড ইন্টেলিজেন্সের মতো ভবিষ্যৎ শিল্পগুলো বাস্তবায়নের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৬জি প্রযুক্তির প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ব্যবহার শুরু হবে; প্রতি বর্গকিলোমিটারে সংযুক্ত ডিভাইসের সংখ্যা ১০০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে এবং একটি ৪কে এইচডি সিনেমা ডাউনলোড করতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় লাগবে। সুপারকম্পিউটারের চেয়েও কোটিগুণ দ্রুতগতির কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সত্যিকার অর্থে “সমস্যা সমাধান” শুরু করবে, যা ওষুধ, নতুন উপকরণ ইত্যাদির গবেষণা ও উন্নয়নের দক্ষতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে। মস্তিষ্ক-কম্পিউটার ইন্টারফেস শুধুমাত্র চিকিৎসা পুনর্বাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পক্ষেত্র ও দৈনন্দিন ভোগের দিকেও এগিয়ে যাবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরে ছয়টি প্রধান ভবিষ্যৎ শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদনের মূল্য ১০ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি হবে, যা অসীম নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সূত্র: স্বর্ণা-আলিম-লিলি, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।