প্রতিকী ছবি: ইন্টারনেট।
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে এক কলেজছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী। একই সঙ্গে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সাভার পরিবহন’ ঢাকায় নিয়মিত চলাচলকারী একটি গণপরিবহন। সেই বাসের চালক ও হেলপারের দ্বারা এমন লোমহর্ষক অপরাধ সংঘটিত হওয়া প্রমাণ করে যে, গণপরিবহনে নারীরা এখনো চরমভাবে অনিরাপদ। এর আগেও ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই অংশে চলন্ত বাসে কিংবা বাস থামিয়ে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও ডাকাতির একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। এসব আশঙ্কাজনক এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
তারা বলেন, দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি কিংবা মব ভায়োলেন্স—কোনো ক্ষেত্রেই কার্যকর বিচার নিশ্চিত হচ্ছে না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতিই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে এবং অপরাধ প্রবণতা ভয়াবহভাবে বাড়ছে।
সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সমাজে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির করুণ বাস্তবতা এ ধরনের ঘটনা থেকে বারবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা ও অধিকার দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। নারীকে ভোগ্য বস্তু হিসেবে দেখার বিকৃত মানসিকতাই নারী নির্যাতনের মূল কারণ, যা নারীর অধিকারকে ক্রমাগত সংকুচিত করছে। এর ফলেই নারী নির্যাতনের বিচার আইনের চোখে গুরুত্ব পায় না। নয়তো প্রতি ১০০টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ৩টি ঘটনায় বিচার নিশ্চিত হতো না, কিংবা অপরাধীরা এভাবে প্রকাশ্যে অপরাধ সংঘটনের সাহস পেত না।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।