ভোলায় রাজাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সিফাত হত্যার বিচারের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকায় বিজেপির জেলা কার্যালয়ের সামনে এসব ঘটনা ঘটে।
ভোলা জেলা বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিকেলে জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা স্কুল মোড় ও কালীবাড়ির চত্বর হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের দিকে ফেরার পথে হঠাৎ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ককটেল বিস্ফোরণের পর মিছিলকারীদের একটি অংশ নতুন বাজারে অবস্থিত জেলা বিজেপি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। এ সময় অফিস ভাঙচুরের চেষ্টা হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এ সুযোগে একদল দুর্বৃত্ত বিজেপি কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। অফিসে তালা লাগিয়ে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও টেলিভিশন ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি অফিস চত্বরে বিক্ষোভও করা হয়। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোতাছিম বিল্লা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিকেলে আমাদের অফিস বন্ধ ছিল। বিএনপির মিছিল চলাকালে একদল সন্ত্রাসী অফিসে হামলা চালিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আসবাবপত্র ও টিভি ভাঙচুর করে। অফিসে থাকা নির্বাচনি লিফলেট রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয় এবং নোংরা বস্তু নিক্ষেপ করা হয়।’
অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা সিফাত হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছি। বিজেপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা আমাদের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, বিক্ষোভ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং একদল দুর্বৃত্ত বিজেপি কার্যালয় ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে ভোলা শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।