প্রথম আলো কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (আজ) ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল রোববার ডিএমপি কর্তৃপক্ষ মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ডিবিকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবি তেজগাঁও বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব তাঁদের বিভাগকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মামলার নথিপত্র তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পাননি।
গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, সাইবার সুরক্ষা আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দাঙ্গা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে কার্যালয়ে প্রবেশ, লুটপাট, ব্যাপক ক্ষতিসাধন, হত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রথম আলোর প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ ও অফিসের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত করতে পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি অনলাইনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেওয়া এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, শুধু লুটপাট হওয়া সম্পদের মূল্য প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুই প্রতিষ্ঠানের ঘটনায় গ্রেপ্তার মোট ৩৫ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ডিবির নেতৃত্বে তদন্ত জোরদার করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : প্রথম আলো।