২৬ ডিসেম্বও ২০২৫, সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার গার্মেন্টসের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস এর নির্মম হত্যাকান্ডে জড়িত প্রত্যেকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের এ কর্মসূচি পালন করে জী-ক্ষপ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নাইমুল আহসান জুয়েল, যুগ্ম সমন্বয়কারী, জি-স্কপ। সঞ্চালনা করেন জী-স্কপের শীর্ষ নেতা সেলিম মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস এন্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ইদ্রিস আলী, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট এর সহ-সভাপতি খালাকুজ্জামান লিপন, জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক লুৎফুন নাহার লতা, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক জোটের সহ-সভাপতি শেখ শাহনাজ, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাচ্চু মিয়া, বাংলাদেশ জাতীয় নিট ডাইং গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী, জী-স্কপের নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধি হাসনাত কবির, আশুলিয়ার প্রতিনিধি খায়রুল কবির মিন্টু এবং মিরপুর অঞ্চলের প্রতিনিধি শিরিন সিকদার। সংহতি বক্তব্য রাখেন স্কপের সমন্বয়ক আহসান হাবিব বুলবুল, স্কপ নেতা নুরুল আমিন ও আবদুর রাজ্জাক, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ইকবাল হোসেন, হকার শ্রমিক ইউনিয়নের সেকেন্দার হায়াত।
বক্তারা বলেন, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিপু চন্দ্র দাসকে যেভাবে মব সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে, তা মানবতা, আইন ও সংবিধানের মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং যারা ষড়যন্ত্র করেছে-সবার দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে মব সুষ্টি করে দিপুকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার মত নৃশংসতা চালানো হয়েছে। অথচ দিপুর বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ উঠেছে যে কর্মস্থলের বিরোধের প্রতিশোধ এবং রাজনৈতিক সুবিধা লুটতে কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠি পরিকল্পিত ভাবে মব তৈরি করে এই নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তাই শুধু মব অংশগ্রহণকারীদেরকেই নয় মব তৈরির চক্রান্তকারিদেরও শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ জাতীয় গণমাধ্যমের কার্যালয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত। এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের এবং উষ্কানি দাতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শান্তির আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সমাবেশ থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ-
১. দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে
২. হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতক ও ষড়যন্ত্রকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে
৩. দিপুর পরিবার কে যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শান্তি নিশ্চিত করতে হবে
৫. শ্রমিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে
৬. মব সহিংসতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে
বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দিপু চন্দ্র দাসের বিচার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক অধিকারের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন আরো কঠোর হবে যা শক্তি প্রয়োগ করে দমন করা যাবে না।