বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে মো. সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ী খুন হয়েছেন।
হত্যাকান্ডের দেড় ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছেন সেনাবাহিনীর টহল দলের সদস্য।
পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইতালির তৈরি পিস্তলসহ তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। এরপরই দ্রুততম সময়ে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আজিমপুর আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়েই আজিমপুর আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে।
টহলরত অবস্থায় রাত পৌণে ৮টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের কাছে তারেক নামে এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। সেনারা তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একটি অস্ত্রের ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেলে সন্দেহ আরো ঘনীভূত হয়।
সেনা সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তারেক স্বীকার করে যে, হত্যাকাণ্ডের সময় তার কাছে অস্ত্র ছিল। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মিটফোর্ড কলোনির ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি গ্যারেজ থেকে দুটি ৭.৬২ এমএম ‘নগেট’অস্ত্র, একটি ‘তেরি ইতালি’ ব্র্যান্ডের ৭.৬২ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তারেককে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক তারেকের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। সোহাগ হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ওসি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের কাছে রজনী ঘোষ লেনে ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা তার মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে এবং মারধর করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারির ব্যবসা করে আসছিলেন।
ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে জনি ও মঈন নামে দুজনকে আটক করেছে।
নিহতের বন্ধু মামুনের অভিযোগ, “এলাকার প্রভাবশালী মঈন গত কয়েক মাস ধরে সোহাগের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছিল। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে কয়েকবার হুমকিও দেয়।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহাগকে একা পেয়ে মঈন ও তার সহযোগীরা পাথর দিয়ে আঘাত করে এবং তাকে উলঙ্গ করে নির্যাতন চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই সোহাগ মারা যায়।”