শিরোনাম :
খেরসনে জাতিসংঘের ত্রাণবহরে রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ, নিহত অন্তত ১১১ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ চীন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’ চীন-যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প ৬০০ বছরের ঐতিহ্যের সামনে সি-ট্রাম্পের যৌথ উপস্থিতি স্থিতিশীল সম্পর্ক গঠনে একমত সি-ট্রাম্প গবেষণায় সফলতাকে স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ মূল্যায়ন করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা ‘সাধারণ মানুষের সেবায় কোনো ধরনের হয়রানি নয়: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও যুবকদের দক্ষ করতে ডব্লিউএফপি-এর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি

অনলাইন জুয়ার আসক্তি এখন ঝিনাইদহের ঘরে ঘরে

সুলতান আল এনাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

সাইবার মহামারীতে পরিনত হয়েছে অনলাইন জুয়া। কিশোর-কিশোরী যুবক যুবতী সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন এই ভয়াবহ মহামারিতে। হাজার হাজার পরিবার ধ্বংসের পথে,তবুও নেই কোনোই প্রতিকার।

অনলাইন জুয়া! এমনই একটা গোলক ধাঁধা!
যা, কখনোই আপনাকে বুঝতে দিবে না, আপনার সর্বস্ব লুটপাট করা হচ্ছে । এই সাইবার মহামারী অনলাইন জুয়ার ফাদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে আত্মহত্যা করছেন অনেকেই। বাড়ছে কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও নানা বিধ সামাজিক অপরাধ। অথচ অনেকটাই নির্বাক ভূমিকায় দেশের প্রশাসন।
দেশের ৮০ শতাংশ কিরোশের মোবাইল ফোনেই রয়েছে রাতারাতি কোটিপতি হবার এই যাদুর চেরাগ অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ঘাতক এপ্লিকেশন।

এই জুয়ার মাধ্যমেই, ডিপোজিটের নামে ক্রিপ্টোকারেন্সির হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, যার সাথে জড়িত দেশের অনলাইন ব্যাংকিং বিকাশ ও নগদের শতো শতো এজেন্ট। অথচ দেখার কেউ নাই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে চটকদার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে, ঘরে বসেই আয় করুন লক্ষ লক্ষ টাকা। কিছু টাকা ডিপোজিট করুন আর জিতে নিন জ্যাকপট। সেই বিজ্ঞাপনের আলোর ঝটকায় বিভোর হয়ে রাতারাতি কোটিপতি হবার স্বপ্নে সর্বস্ব হারাচ্ছে হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী যুবক-যুবতী।
এই সাইবার মহামারী অনলাইন জুয়া আপনাকে মুহুর্তের মধ্যে আসক্ত করে ফেলবে, আপনার চিন্তা চেতনার উপরে নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ হারিয়ে যাবে। আপনি জেতার আশায় বার বার হারবেন তবুও এই জুয়ার ফাদ থেকে বের হতে পারবেন না। অন্ধ মোহে সব হারিয়ে যখন আপনার সম্বিত ফিরে আসবে,আপনি তখন হয়ত নিঃস্ব অথবা রিনের বেড়াজালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছেন।

 

ঝিনাইদহের অলিতে-গলিতে পাড়ায় মহল্লায় গ্রামগঞ্জে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এই অনলাইন জুয়া, ইতিপূর্বে কিছু পদক্ষেপ প্রসাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হলেও বর্তমানে দৃশ্যমান কোনো অভিযান দেখা যাচ্ছে না।
ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিট জানায়, তারা এসব সাইট নিয়মিত নজরদারিতে রাখছে এবং একাধিক সাইট ব্লক করার জন্য বিটিআরসির কাছে নিয়মিত রিপোর্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক থেকে অনলাইন জুয়ার ৩৩১টি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
গুগল প্লে স্টোর থেকে জুয়া বিষয়ক অ্যাপ বন্ধের জন্য গুগল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিপোর্ট করেছে বিটিআরসি। এরি মধ্যে বেশ কয়েকটি অ্যাপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বাকিগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

 

তবে অনলাইনে রাতারাতি সব ওয়েবসাইট ব্লক করে দেয়া রীতিমতো অসম্ভব বলে জানান ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক উপ-কমিশনার ।
তিনি বলেন, “অনলাইনে অসংখ্য জুয়ার সাইটের সব বন্ধ করা সম্ভব না। একটি ওয়েবসাইট বন্ধ করলে ভিন্ন নামে আরও ১০টি সাইট খুলে যায়। ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বিশ্বের কোথাও নেই। জুয়ারিরা এই ওপেন মিডিয়াগুলো ব্যবহারের সুযোগ নিয়েই ছড়িয়ে পড়ছে।”

ওয়ার্ল্ড গ্যাম্বলিং মার্কেট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে শুধুমাত্র অনলাইন জুয়ার বাজারমূল্য ছিল ৬৩৫৩ কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৩ সালে এর ব্যাপ্তি ১১.৭% বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবং এই অনলাইন জুয়ায় বাজারমূল্যের গ্রাফ ক্রমশ উর্ধ্বমুখী।
তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ এর সংবিধানে জুয়া খেলা নিরোধ করা হয়।

 

সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘গণিকাবৃত্তি ও জুয়াখেলা নিরোধের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের জুয়া প্রতিরোধে প্রচলিত আইনেও জুয়া খেলা অবৈধ। কিন্তু এ আইন ১৮৬৭ সালে অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে প্রণীত এবং এতে সাজার পরিমাণও খুব নগণ্য। পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট অনুযায়ী, যে কোনও ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনও সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
এ রকম কোনও ঘরে তাস, পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনও ব্যক্তিকে জুয়া খেলারত বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
অর্থাৎ এই আইন শুধুমাত্র প্রকাশ্য জুয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং দণ্ডবিধি বর্তমান বাস্তবতার সাথে উপযোগী নয় বলেই পুলিশের মত।

 

২০১৯ সালে রাজধানীতে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন জুয়ার আসর থেকে শতাধিক ব্যক্তি আটক হলে আইনের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তখন আলোচনায় আসে।তখন অবশ্য এই আইনে কোন মামলা দেয়া হয়নি। তবে ১৫৬ বছরের পুরনো আইন সংশোধন করে একে যুগোপযোগী করা জরুরি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও জনসাধারণ।
যেহেতু জুয়ার আইনে শাস্তির বিধি সামান্য, সেক্ষেত্রে অর্থপাচার ও সামাজিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হরে এটাকে দ্রুতই নির্মুল করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD