শিরোনাম :
খেরসনে জাতিসংঘের ত্রাণবহরে রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ, নিহত অন্তত ১১১ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ চীন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’ চীন-যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প ৬০০ বছরের ঐতিহ্যের সামনে সি-ট্রাম্পের যৌথ উপস্থিতি স্থিতিশীল সম্পর্ক গঠনে একমত সি-ট্রাম্প গবেষণায় সফলতাকে স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ মূল্যায়ন করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা ‘সাধারণ মানুষের সেবায় কোনো ধরনের হয়রানি নয়: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও যুবকদের দক্ষ করতে ডব্লিউএফপি-এর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি

যুবক যুবতীর কাছ থেকে ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চেয়ারম্যান মেহেদী আটক

সুলতান আল এনাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৪

চুয়াডাঙ্গায় ৭৪ লাখ টাকা হাতিয়ে পালানোর পর ঝিনাইদহে ঘাঁটি গেঁড়েছে “সমাধান ফাউন্ডেশন” নামে একটি প্রতারণা মুলক প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ঝিনাইদহের ৬ উপজেলা থেকে প্রায় দেড়’শ যুবক যুবতীর কাছ থেকে সাড়ে ৩০ হাজার টাকা করে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে অফিসটিতে হানা দেয় পুলিশ ও সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযানের খবর আঁচ করতে পেরে অফিসের নিচে বিপুল অংকের টাকা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা ঢাকা মে্েট্রা-গ-২৬-৭৫২৩ নাম্বারের একটি প্রাইভেট কার পালিয়ে যায়। সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসানও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সমাধান ফাউন্ডেশনের অর্গানাইজার ও টাকা আদায়কারী হরিণাকুন্ডু উপজেলার রথখোলা গ্রামের হায়দার হাসনাত। সরকারের একটি গোয়ন্দা বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াইমাস আগে ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়া জোড়াপুকুর সড়কে নিঝুম টাওয়ারে অফিস খুলে শত শত যুবক যুবতীকে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রেজিষ্ট্রেশন করায় সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার সংলগ্ন বাদেডিহী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে চিহ্নিত প্রতারক খন্দকার মেহেদী হাসান। এপর্যন্ত ৪৬৯ জনের রেজিষ্ট্রেশন করা হলেও দেড় শতাধীক যুবক যুবতী বিনা ¯িøপে লাখ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে দেড়’শ যুবক যুবতী প্রায় ৪৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, তারা যুবক যুবতীদের বিভিন্ন প্রডাক্ট এমনকি ব্যাংক থেকে ঋন নিতে সহায়তা করবেন। কিন্তু আশপাশ জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসান বংশগত ভাবেই দেশসেরা প্রতারক। সারা দেশে অফিস খুলে বেকার ও অসহায় যুবকদের ভুলভাল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ঢাকার উত্তরার ১০ নং সেক্টরে বিপুল বিত্ত বৈভব গড়ে তুলেছেন। প্রতারক মেহেদীর অফিসে রক্ষিত কাগজপত্র ঘেটে দেখা যায়, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ৪৬৯জন রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। এরমধ্যে রেজিষ্ট্রার ৩৯ জনের নাম পাওয়া গেছে। অফিসটিতে গোয়েন্দারা বৈধ কোন কাগজপত্র পাননি। সব ভুয়া ও জাল কাগজ তৈরী করে “সমাধান ফাউন্ডেশন” গঠন করা হয়েছে। অফিসে রক্ষিত কাগজপত্র ঘেটে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরো যে সব প্রতারকরা জড়িত তারা হলেন, সেক্রেটারি জেনারেল এনামুল হক, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর শহীদুল্লাহ, রজনী আক্তার, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল্লাহ, একেএম সাহিদুর রহমান, বিল্লাল হোসেন, সোহেল আলী, এসএম আশরাফুল্লাহ ও মাহবুবুর রহমান। শহরের মহিষাকুন্ডু গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, তিনি ও তার স্ত্রী তহমিনা খাতুন সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসানের কাছে ৬১ হাজার, বারোবাজার এলাকার কাজল ৫ লাখ, হরিণাকুন্ডুর জোড়াপুকুর গ্রামের মাজেদা খাতুন ৩০ হাজার ৫০০, চটকাবাড়িয়া গ্রামের মিতা খাতুন ৩০ হাজার ৫০০ টাকা বিনা রশিদে টাকা দিয়েছেন। এছাড়া সদরের লেবুতলা গ্রামের সেলিনা খাতুন, হরিণাকুন্ডুর জোড়াপুকুর গ্রামের আফাজ, বড়ভাদড়া গ্রামের আল আমিন, অনিক, সদরের বড়গড়িয়ালা গ্রামের সোহেল রানা, শ্রীপুর গ্রামের হাসানুজ্জামান, বিল্লাল হোসেন ও কোটচাঁদপুরের দুর্বাকুন্ডু গ্রামের সাইফুজ্জামানসহ শত শত যুবক টাকা প্রদানের কথা স্বীকার করেন। তারা সমাধান ফাউন্ডেশনের কথিত চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসান ও জেলা চীফ অর্গানাইজার হায়দার হাসনাতের কাছে টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রতারক চক্রের খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায় এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্য রেকর্ড করে। অফিসটির কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় খন্দকার মেহেদী হাসান নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আরিফ জানান, কাগজপত্র দেখে মনে হলো সংস্থাটি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। সমাধান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার মেহেদী হাসানের কথাবার্তা অসংলগ্ন। একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে তিনি বিভ্রান্ত করছেন। এজন্য তাকে থানায় আনা হয়েছে। তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD