আফতাবনগর – বনশ্রীর বাসিন্দারা গিলে খাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী রামপুরা খালটি। আশির দশকে রামপুরা খাল কারওয়ান বাজার পর্যন্ত নৌপথ চালু ছিল।বর্তমানে দুই আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা বাসা-বাড়ির ময়লা থেকে শুরু করে ইমারত নির্মাণ-সামগ্রী ফেলেই খালটি ভরাট করে ফেলেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দাবি করে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া বাসা-বাড়ির দূষিত ময়লা পানিতে পরিবেশ আরও বেশি নষ্ট করেছে।
জানা যায়, রামপুরা খাল দিয়ে আশির দশকে নৌপথে হাতিরঝিল দিয়ে সবজি ও অন্যান্য জিনিসপত্র কারওয়ান বাজারে যেত। কিন্তু ঢাকা শহরের এক-তৃতীয়াংশ এলাকার গৃহস্থালি ও পয়োবর্জ্য এবং দূষিত পানি এখন হাতিরঝিলের পরিবর্তে ওই খাল দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বনশ্রীর কিছু অংশ, দক্ষিণ বনশ্রী, মেরাদিয়া, ভূঁইয়াপাড়া, মাদারটেক ও আশপাশের এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ময়লা রামপুরা খালে ফেলা হচ্ছে। এতে দুর্গন্ধে এই এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হচ্ছে ব্যাহত।
এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সিও খায়রুল ইসলামের সঙ্গে রামপুরা খালের দখল ও দূষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক খবর সংযোগকে বলেন, জাতীয় যুব দিবসে সমন্বয়ক, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, সৈয়দা রিজওয়ানাসহ আফতাবনগর সোসাইটি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দখল উচ্ছেদ অভিযান করি এবং পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। দুর্ঘন্ধ এবং দখলমুলত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রতিনিয়ত কাজের মধ্যেই আছে বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় বাসা-বাড়ির যারা তারা ময়লা ফেলে এই খালকে আরও বেশি দূষণ করেন।আগে জনগণকে সচেতন হতে হবে।
বনশ্রীর স্থানীয় বাসিন্দা,
নোঙর ট্রাস্ট (এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর) এবং নোঙর বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সদস্য ফজলে সানি
দৈনিক খবর সংযোগকে বলেন,এই নড়াই নদী ” বিগত দিনে কোথাও ৫০ ফিট,৩০ ফিট আবার কোথাও ১০০ ফিট পর্যন্ত চওড়া ছিলো। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ডিসি এটাকে আমলে নিয়ে সেটা সরকারের নিয়ন্ত্রণে এবং ইস্টার্ন হাউজিং নিয়ে ৫০ ফিট দৈর্ঘ্যের একটা পরিমাপ করে উভয় পাশ দখলমুক্ত করে। যার ফলে রামপুরা ব্রিজ থেকে সোজা বালু নদী পর্যন্ত এখন দেখা যায়। আফতাবনগর এবং বনশ্রী বাসা-বাড়ির যে পয়:নিস্কাশনের পানি সেটা এই খালে গিয়ে পড়ছে এবং পানি দূষিত হচ্ছে। এই দূষণ থেকে রক্ষা করতে হলে এই খালে আলাদা সিটি করপোরেশন সুয়ারেজ ব্যবস্থা করলে নদী দূষণ রক্ষা করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “নড়াই নদী ” রামপুরা খালে হাতিরঝিলের মতো যদি রামপুরা ব্রিজ থেকে বালু নদী পর্যন্ত একটা নৌযান( ওয়াটার বাসের) ব্যবস্থা করা যায় তাহলে সাধারণ মানুষের সহজ একটা যাতায়াত ব্যবস্থা হবে এবং রোডের উপর অনেক চাপ কমে আসবে। রামপুরা বিজ থেকে মেরাদিয়া খেয়াঘাট, আরেকটা ত্রিমোহনীতে একটা ঘাট আছে, বালু নদীতে বিআইডব্লিউটিএ এর একটা ঘাট আছে সে পর্যন্ত ওয়াটার বাস চালু করে দিলে মানুষ আলটিমেটলি সচেতন হবে, ময়লা আবর্জনা খালে ফেলবে না। তায়ে করে রামপুরা খালের দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে।