শিরোনাম :
খেরসনে জাতিসংঘের ত্রাণবহরে রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ, নিহত অন্তত ১১১ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ চীন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’ চীন-যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প ৬০০ বছরের ঐতিহ্যের সামনে সি-ট্রাম্পের যৌথ উপস্থিতি স্থিতিশীল সম্পর্ক গঠনে একমত সি-ট্রাম্প গবেষণায় সফলতাকে স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ মূল্যায়ন করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা ‘সাধারণ মানুষের সেবায় কোনো ধরনের হয়রানি নয়: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও যুবকদের দক্ষ করতে ডব্লিউএফপি-এর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি

ঝিনাইদহে অনলাইনে কাজের নামে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা আব্দুল গফ্ফার

সুলতান আল এনাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৪

ঝিনাইদহে অনলাইনে কাজ দেওয়ার নামে প্রায় ৭’শ শিক্ষার্থী ও বেকার যুবকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে আব্দুল গফ্ফার নামের এক প্রতারক। আব্দুল গফ্ফার সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের বেড়াদি গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। প্রতারক আব্দুল গফ্ফারের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে রবিবার সকালে তার বাড়ি ঘেরাও করে কয়েকশত ভুক্তভোগী। তারা প্রতারক গফ্ফারকে গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এই প্রতারণার সাথে আব্দুল গফ্ফারের বড় ভাই প্রান্ত ও মা রোকসানাও জড়িত। বাড়ি থেকে পালিয়েছে প্রান্ত। বিক্ষুদ্ধরা রোকসানার কাছে তার ছেলের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলছেন, আপনারা মামলা করেন, মামলায় জদি আপনারা জয়ী হন তাহলে টাকা দিয়ে দেব। আব্দুল গফ্ফারের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বেড়াদি গ্রামের আঃ কুদ্দুসের ছেলে মেহেদী হাসান, জয়নদ্দিনের ছেলে আশিক, সুজা উদ্দিনের ছেলে সজল, কোলা গ্রামের শফি দেওয়ানের ছেলে রাজীব আহমেদ ও শাকিল, রিপন মিয়ার ছেলে রিমন, মিজানুরের ছেলে মিরাজ, আঃ গনির ছেলে মোজাম্মেল, ছোট মান্দারবাড়িয়া গ্রামের আবু কালামের ছেলে আতিকুর, ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কালিকাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ, জিহাদুল সাবরিনা আক্তার রিয়া, হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাসহাটিয়া গ্রামের পান্নু জোয়ার্দ্দারের ছেলে নয়ন ইসলাম, সদর উপজেলার সাগান্না গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে জুনায়েদ আহমেদসহ অসংখ্য বেকার যুবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান ডিগ্রি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, এই গফ্ফার আগে দুবাই ছিল। দুবাই থেকে ফিরে এলাকার যুবকদের কাছে এসকে আইটি ইনস্টিটিউট নামে একটি ওয়েব সাইট ও মোবাইল অ্যাপে সবাইকে ইনভেস্ট করতে প্রলুব্ধ করে। এই ওয়েব সাইটে মেম্বার হলে প্রতিদিন ৬ ডলার ইনকাম করা যাবে। প্রাথমিক মেম্বারশীপ নিতে ১৬৫০০ টাকা ও চেকার মেম্বারশীপ নিলে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। চেকার মেম্বারশীপ নিলে দিনে ১২ ডলার ইনকাম হবে। প্রাথমিক মেম্বারশীপ থেকে রেফার করে ৫জনকে মেম্বার বানালে সে চেকার মেম্বারশীপ অর্জন করবে। এছাড়া রেগুলার কাজ করলে প্রমোশন ব্যাজ অর্জন করবে আর বাড়তে থাকবে ইনকাম। এই প্রলোভনে প্রড়ে হলিধানী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সাত শতাধিক মানুষ এই ওয়েব সাইটের মেম্বার শীপ নেয়। কেউ কেউ ৭ থেকে ৮ মাস আগে মেম্বার হয়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা উইথড্র করতে পেরেছে। জুনায়েদ আহমেদ জানান, গত দুই মাসে এই এলাকা থেকে ঝড়ের মতো মেম্বারশীপ কেনা হয়েছে। লোভে পড়ে কৃষক, গৃহিনী, ভ্যান চালক, বেকার, শিক্ষার্থী সবাই মেম্বারশীপ কিনেছে। কখনো ব্যাংক একাউন্টে, কখনো নগদ টাকা, কখনো মোবাইল ব্যাংকিয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে গফ্ফার। কয়েকদিন ধরে মেম্বাররা ইনকামের টাকা উইথড্রের জন্য চাপ দিলে গা ঢাকা দেয় গাফ্ফার। আমাদের কাছে টাকা নেওয়ার সকল প্রমাণ রয়েছে। সজল নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, এই ঘটনায় আমরা পুলিশে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্থানীয় ক্যাম্পও তারা ম্যানেজ করেছে।

রবিবার দুপুরে তারা পুলিশ সুপারের সাথে দেখা করে অভিযোগ জানালেও কোন পুলিশ সদস্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি বলেন, আমাদের সাথে প্রতারণা করে ঢাকায় সম্পদ গড়ে তুলেছে গফ্ফার। জানাগেছে, ২০২২ সালে নেইমাচিফ থেকে এসকে আইটি ডট কম নামের একটি ডোমেইন কেনা হয়। অনলাইনে ইনকামের লোভ দেখিয়ে এই ওয়েবসাইটে ৪ হাজার ৪ শতের বেশি মেম্বারশীপ বিক্রি করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি। ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া আছে দুবাই। গাফ্ফারের মা রোকসানা জানিয়েছেন, তার ছেলে বউ নিয়ে ঢাকার যাত্রা বাড়িতে থাকেন। তার সাথে তার ছেলের যোগাযোগ আছে। আইনের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের টাকা পাওনা হলে টাকা তারা দিয়ে দেবে। এদিকে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ডাকবাংলা ব্রাঞ্চের ২০৫০০০৩০২০১৫২১২০২ হিসাব নাম্বারে বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীরা টাকা জমা দিয়েছে। যেই একাউন্টটি আব্দুল গাফ্ফারের নামে। তাদের কাছে গাফ্ফারের ব্যবহৃত ০১৯৬৩৬৩৩৪৮৬ ও ০১৭৭৯১৯৯৯৮১ মোবাইল নাম্বার ও তার ভাই প্রান্ত ০১৯৯৮৮৯১৪০৭ মোবাইল নাম্বারটি ব্যবহার করতো। এখন বন্ধ করে রেখেছে। অভিযোগকারীদের অভিযোগ মতে আব্দুল গাফ্ফার প্রায় ১০ কোটির বেশি টাকা প্রতারণা করেছে। তারা কোথায় গেলে সমাধান পাবে সেটা ভেবেই কুল পাচ্ছে না। যেকোন সময়ে হয়তো ওয়েবসাইটটিও ডাউন হয়ে যেতে পারে। ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রæত এই প্রতারককে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখবেন। তারপর ব্যবস্থা নিবেন।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD