১৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী অধিদপ্তর কর্তৃক বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব মোঃ আব্দুল জব্বার মন্ডল।
তদারকিকালে দেখা যায় কারওয়ান বাজারস্থ কিচেন মার্কেটে অবস্থিত মেসার্স আল্লাহর দান চিকেন হাউসের ভেতরে একটি ফ্রিজ রয়েছে এবং ফ্রিজের ভিতর প্রায় ১৫০ কেজি মুরগি সংরক্ষণ করে রাখা রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মচারী জানান রাত্রে মুরগি ক্রয় বিক্রয়ের সময় অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রকৃতির মুরগি প্রসেস করে ফ্রিজের সংরক্ষণ করা হয় এবং এগুলো দিনের বেলায় বিভিন্ন রেস্টুরেন্টগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রি করা হয়। বিক্রয় রশিদ বই চেক করে দেখা যায় প্রসেস করা ফ্রিজের সোনালী মুরগি ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে। অন্য আরেকজন কর্মচারী জানান যে, ফ্রিজের এই মুরগিগুলো তারা নিজেরা ভাগ করে বাসায় খাবার জন্য নিয়ে যান। জেরার এক পর্যায়ে একজন কর্মচারী মরা মুরগি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে মর্মে সরল স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং হাতজোড় করে দেশবাসীর কাছে এ রকম অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন মর্মে অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য যে, একই প্রতিষ্ঠান পাইকারি বিক্রেতা হিসেবে নিজেকে খুচরা বিক্রেতা দাবি করে নিজের কাছেই মুরগি বিক্রি করার মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে। মুরগি ক্রয়ের ক্যাশ মেমো চেক করে দেখা যায় যে ১৮৩ টাকা এবং ১৯৫ টাকা কেজি দরে সোনালী মুরগি ক্রয় করা হলেও বিক্রি করা হচ্ছে ২৬০ টাকা দরে।
মরা মুরগি প্রসেস করে ফ্রিজে বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার অপরাধে আল্লাহর দান চিকেন হাউজ, দোকান নম্বর ২০, কিচেন মার্কেট( নীচ তলা),কাওরান বাজার, ঢাকাকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম জনস্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এছাড়াও উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব সুমনকে তেজগাঁও থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয় এবং একটি মামলা দায়ের করা হয়।জনস্বার্থে অধিদপ্তরের এরূপ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।