শিরোনাম :
খেরসনে জাতিসংঘের ত্রাণবহরে রুশ ড্রোন হামলার অভিযোগ ঝড়-বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড উত্তরপ্রদেশ, নিহত অন্তত ১১১ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ চীন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক’ চীন-যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প ৬০০ বছরের ঐতিহ্যের সামনে সি-ট্রাম্পের যৌথ উপস্থিতি স্থিতিশীল সম্পর্ক গঠনে একমত সি-ট্রাম্প গবেষণায় সফলতাকে স্বর্ণপদক ও পদোন্নতিতে বিশেষ মূল্যায়ন করা হবে : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতামূলক কর্মশালা ‘সাধারণ মানুষের সেবায় কোনো ধরনের হয়রানি নয়: জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও যুবকদের দক্ষ করতে ডব্লিউএফপি-এর সহযোগিতা চাইলেন পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি

স্টোর কিপার থেকে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা, নামে বেনামে সম্পদের পাহাড়

সুলতান আল এনাম,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৪

ঝিনাইদহ পৌরসভার স্টোর কিপার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বনে যাওয়া আসাদুজ্জামান চাঁদ গত ১৫ বছরে শতশত অপকর্ম করলেও এখনো বহাল তবিয়াতে চাকুরি করে যাচ্ছেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্রজনতার উপর হামলার জন্য অর্থ যোগান দেওয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। চুল পরিমান দাপটও কমেনি তার। ক্ষমতার অপব্যবহার করে গত ১৫ বছরে শহরের চারিদেকে নামে বেনামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার অঢেল সম্পদ। তবে এই সম্পদ তিনি কিভাবে অর্জন করলেন তার সুনির্দ্দিষ্ট কোন তথ্য নেই আয়কর অফিসেও। পৌরসভার চেক জালিয়াতিসহ নানা দুর্নীতি করে তিনি রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। নামে বেনামে অঢেল সম্পদ গড়ে ঝিনাইদহ শহরবাসিকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আসাদুজ্জামান ওরফে চাঁদ।

 

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান চাঁদ ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রথমে স্টোর কিপার হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর তিনি প্রধান সহকারী ও পদোন্নতি পেয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। এই পদে নিয়োগ পেয়ে তিনি পৌরসভার হিসাব শাখায় ছড়ি ঘুরাতে থাকেন। নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগসাজস করে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে একের পর এক পৌরসভার ফান্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করতে থাকেন। কি ভাবে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যায় সে বিষয়ে নিয়মিত একাউন্টস সেকশনে এই চক্রের বৈঠক হতো। আর এ ভাবেই আসাদুজ্জামান চাঁদ গড়ে তোলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের চাকলাপাড়ায় পৈত্রিক সুত্রে তিনতলা বাড়ির পাশাপাশি বাজার পাড়ায় জমি কিনে হাকিয়েছেন সাততলা বাড়ি, শহরের কেসি কলেজের পাশে ১০ তলা বাড়ি, ট’বাজারের পাশে ৫তলা বাড়িটি এখন নির্মানাধীন। এছাড়াও পাগলাকানাই পুজা মন্দিরের পাশে জমিসহ একটি বাড়ি ও পাগলাকানাই মোড়ে একটি পুকুর কিনেছেন। কাঞ্চনপুর মসজিদের পাশে রয়েছে জমি। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক জমি ও বাড়ির সন্ধান মিলেছে। রয়েছে বেশ কয়েকটি বাস ও ট্রাক।
জানা যায়, পৌরসভার চেক জালিয়াতির মাধ্যমে পৌরসভার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ঝিনাইদহ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: আসাদুজ্জামান চাদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২৩ সালের ২২ জানুয়ারি দুদক ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ বজলুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন।
মামলায় বলা হয়, ঝিনাইদহ পৌরসভার বিভিন্ন কাজে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন বিল-ভাউচারের বিপরীতে চেকে অতিরিক্ত অঙ্ক বসিয়ে আসল চেকের টাকাসহ অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। আসামিরা বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে ঝিনাইদহ পৌরসভার নামে পরিচালিত সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ঝিনাইদহ শাখার হিসাব নং-৩১৬ থেকে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯ টাকার বিপরীতে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ১৯ টাকা উত্তোলন করে ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ মামলা করা হয়। যা এখনো চলমান ।
এছাড়াও, টিআর কাবিখার লাখ লাখ টাকার কোন কাজ না করেই টাকা তুলে নেন সাবেক মেয়র ও চাঁদ। টিআর কাবিখার কাজ যে সকল স্থানে হওয়ার কথা ছিলো সেখানে গিয়ে কাজের দৃশ্যমান কিছুই পাওয়া যায়নি। এছাড়াও মিন্টু আর চাঁদ মিলে পৌরসভায় নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন কর্মচারী অভিযোগ করে বলেন, আমরা পৌরসভায় চাকুরীর জন্য আসাদুজ্জামান চাঁদের কাছে ১০ লাখ টাকা করে দিয়েছিলাম। এভাবে প্রায় ৫০ জনকে অবৈধ নিয়োগ দেওয়া হয়।
এদিকে আসাদুজ্জামান চাঁদ গত ইউপি নির্বাচনে পাগলাকানাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হওয়ায় নৌকার মনোনয়ন দেওয়ায় ব্যপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে বাধ্য হয়ে আসাদুজ্জামান চাঁদকে বাদ দিয়ে তারই চাচাত ভাইকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী করা হয়।
এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান চাঁদ বলেন, আমার পরিবার অনেক আগ থেকেই ধনবান ও সম্পদশালী। এই সম্পত্তি তার পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া। তিনি বলেন, আগামীতে তিনি পাগলাকানাই ইউনিয়ন পরিষদে ভোট করবেন বলে একটি মহল তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা রটনা করছে। তিনি পৌরসভার চেক জালিয়াতির বিষয়ে জানেন না বলেও জানান।

শেয়ার করুন:
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD