গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেছেন, আওয়ামীলীগ সরকার দীর্ঘ ১৭ বছরে বাংলাদেশকে একটি কারাগার বানিয়ে রেখেছিল। আর আমরা এই কারাগারে বন্দী ছিলাম। আওয়ামী লীগ এর নির্যাতন নিপীড়ন ও মামলা হামলায় এতদিন দিশেহারা ছিল গোপালগঞ্জের বিএনপি নেতা কর্মীরা।
শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেড়ার বাজার তার নিজ বাস ভবনে এক মত বিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সকল কথা বলেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর এদেশের ছাত্র জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা আরেকটি স্বাধীনতা পেয়েছি। এতদিন সারা বাংলাদেশটাই একটি কারাগার ছিল। আর আমরা সেই কারাগারে বন্দি ছিলাম। তিনি বলেন,গত বৃহস্পতিবার আমি ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জে আসি। আসার পথে টেকেরহাট থেকে শুরু করে চামটা, সাতপাড়, বৌলতলী উলপুর মোট কথা জেলার সব জায়গায় আমারা গিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় করেছি। সবাই আমাকে কাছে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। স্মৃতিচারণ করে বিগত দিনের দুঃখ ও দুর্দশার কথা। আবারো আমাকে পাশে পেয়ে আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন ও সমর্থন জানিয়েছেন তারা। তাদের এত আন্তরিকতার কারণে আমিও গোপালগঞ্জবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনারা জানেন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ আমাদের উপর নির্যাতন, মামলা, হামলা ও ভাংচুর করেছে। আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে রেখেছে। যে কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য রয়েছেন । পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দেশের বাইরে রেখেছে। ইনশাল্লাহ তিনি অল্প সময়ের মধ্যে মুক্ত হয়ে এ দেশে ফিরে আসবেন।
গোপালগঞ্জে আমাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে আপনারা জানেন। ২০১৭ সালে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কতগুলো পোস্টার নিয়ে গোপালগঞ্জে বাড়িতে রওনা হয়েছি। বাড়িতে পৌঁছা মাত্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করে। নির্দয়ভাবে নারী-পুরুষের উপরে নির্যাতন করে। তখন আমাদের নেতাকর্মীদের নির্মমভাবে মারপিট করে। আমি আল্লাহর উপরে ভরসা করে বাড়িতে ছিলাম এবং আমাদের এলাকার নারী-পুরুষ আমাকে রক্ষা করে। পরে আমি এসপি সাহেব কে ফোন করলাম এবং এলাকাবাসী আমাকে রক্ষা করে ঢাকা পাঠিয়ে দেয়। সেদিন যারা আমার উপর এ হামলা চালিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আমরা মামলা করব ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রতিহিংসা চাই না আমরা চাই গোপালগঞ্জে যারা ভালো মানুষ, যারা দেশের উন্নয়ন চায়, মানুষের সাথে যাদের ভাল যোগাযোগ আছে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলে মিলে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। এসময় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি”র নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।