স্থানীয় ও নিহতের বড় ভাই মো. সেলিম জানান, তুহিন তার পরিবারের সঙ্গে বাস করতেন। হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি বাসায় ফেরার পথে ছয়-সাত দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে জনসম্মুখে ধাওয়া দেয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ঈদগাহ মার্কেটের এক দোকানে আশ্রয় নেন, কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে তাকে কোপাতে শুরু করে। তুহিনের গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার দেহে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
নিহতের বন্ধু শামিম বলেন, একটি বিরোধে জড়িত ব্যক্তিকে আঘাত করার ঘটনা দেখে তুহিন ভিডিও করছিলেন। এ সময় সন্ত্রাসীরা ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেয়, কিন্তু তুহিন অস্বীকার করলে তাকে ধাওয়া করে হত্যা করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ভিত্তিতে নিহত তুহিনের মৃত্যু নারী-সংক্রান্ত ভিডিও ধারণের কারণেই ঘটেছে। তিনি আরও জানান, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয়।
বাসন থানার ওসি শাহীন খান বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য কাজ চলছে।
তুহিনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে, তিনি চান্দনা এলাকার জনজীবন ও রাস্তার সমস্যা নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করতেন। হত্যাকাণ্ডের আগের দিনও তিনি চান্দনা চৌরাস্তার রাস্তার অবস্থা নিয়ে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন।
স্থানীয় সাংবাদিক মহল এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের বিচারের দাবি করেছে। ঘটনাটি নিরাপত্তা ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পুলিশের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।