শিরোনাম :
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা- তথ্য প্রবাহ ও স্বচ্ছতার ঝুঁকি সৃষ্টি করবে: টিআইবি ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির বিরুদ্ধে নতুন সাজার রায় ফ্রাঙ্কফুর্টে নারায়ণগঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল পিঠা উৎসব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের ফলে গণভোট নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক : টিআইবি ঢাকা মহানগরের ভোটগ্রহণের আগে-পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টা সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চার দিনের টানা ছুটি: স্বস্তিতে সরকারি কর্মচারীরা নির্বাচন উপলক্ষে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি) এর কঠোর নিরাপত্তা জোরদার: দুর্গম ২৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন দেশীয় কারখানায় তৈরি এসি বাস: আত্মনির্ভরতার পথে বিআরটিসি জাতীয় নির্বাচনে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অ্যাম্বিয়েন্টা ফেয়ার ২০২৬-এ বাংলাদেশের উজ্জ্বল উপস্থিতি

বাংলাদেশে সংস্কারের পূর্বশর্ত রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চার পরিবর্তন: টিআইবি

জার্মান-বাংলা ডেস্ক, ঢাকা অফিস:
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপন করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুর্জয় তারুণ্য, একসাথে, এখনই’ এই প্রতিপাদ্যে দিবসটি উদ্যাপনে জাতীয় পর্যায়ে ‘কর্তৃত্ববাদের পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান এবং দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত মানববন্ধনে ঢাকাসহ সারাদেশের ৪৫টি অঞ্চলের সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), অ্যাকটিভ সিটিজেনস গ্রুপ (এসিজি), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি দেশব্যাপী সনাক, এসিজি, ইয়েস গ্রুপের আয়োজনে র‌্যালি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এছাড়া ফেসবুকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে একসাথে, এখনই’ বার্তাসম্বলিত ফ্রেমসহ প্রোফাইল ছবি পরিবর্তনের বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে টিআইবি।

জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল এগারটায় টিআইবির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয়ে ‘কর্তৃত্ববাদের পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ শীর্ষক একটি আলোচনা এবং দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর জাফর সাদিক। প্রবন্ধে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ঐতিহাসিক ধারা ও বিভিন্ন আইনী কাঠামো, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, নিবন্ধন ও মালিকানার ধরণ ইত্যাদি বিশ্লেষণের পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর গণমাধ্যমের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়।

প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নিউজ টোয়েন্টি ফোর-এর সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহনাজ মুন্নী, চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের সাবেক নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, যশোরের দৈনিক গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা, যমুনা টেলিভিশনের বার্তা প্রধান মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান শেখ সাবিহা আলম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ। টিআইবির আউটরিচ ও কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিকতায়  এমন স্বীকৃতি প্রয়োজন। তাই, এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেন সাংবাদিকতার মান নিশ্চিত হয় এবং পাশাপাশি সাংবাদিকরা অনুপ্রেরণা পায়। কিন্তু বিগত বছরগুলোতে গণমাধ্যমের পরিবেশ দূষিত করা হয়েছে, যার চর্চা এখনো বিদ্যমান। গণমাধ্যমকে এমনভাবে দূষিত করা হয়েছে যে, কেউ বলতে পারবেনা- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। কারন এমন বাস্তুতন্ত্র  তৈরি করা হয়েছে যেখানে যে কেউ লাইসেন্স নিতে পারবে, কিন্তু এই লাইসেন্স কি বিবেচনায় দেওয়া হচ্ছে? এসবের ফলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ^াস কমে যাচ্ছে।’

এএফপি-এর ব্যুরো প্রধান শেখ সাবিহা আলম বলেন, ‘তথ্যই পারে অপ-তথ্যকে সরিয়ে দিতে। একইভাবে সাংবাদিকতাই অপসাংবাদিকতাকে সরিয়ে দিবে। এর প্রমাণ হলো বিগত বছরগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও গণমাধ্যমে ভালো ভালো রিপোর্ট হয়েছে। তাই সাংবাদিকতাকে অব্যাহত রাখতে হবে। যত বেশি এটি করা হবে, গণমানুষের আস্থাও ততো বাড়বে।’

চ্যানেল ২৪ এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন বলেন, ‘সাংবাদিকতা নানান চ্যালেঞ্জের মুখে পরছে। আস্থাহীনতা তার মধ্যে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে নিরাশ না হয়ে সংবাদ মাধ্যমের কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব আছে, যা পেশাগত ব্যর্থতা। কর্তৃত্ববাদ সরে যাবার পর অন্য শক্তি তৈরি হয়। সেটি সামলানোর জন্য সাংবাদিকরা নিজেদের তৈরি করছে কিনা- তা ভেবে দেখতে হবে।’

শাহানাজ মুন্নি বলেন, ‘গণমাধ্যম কমিশন ও এর সুপারিশ বাস্তবায়নের আলোচনা ইতিবাচক। এর মধ্যেই আমরা চাই আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যেনো গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তাবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন। অতীতে চ্যানেল কম থাকলেও, একটি ভালো সংবাদে সরকার না হলেও জনগণের  মধ্যে নাড়া পরতো। কিন্তু এখন গণমাধ্যম বাড়লেও, সঙ্গে বেড়েছে কোলাহল। এছাড়া, গণমাধ্যমে নারীর উপস্থিতি তেমন নেই, অনেকেই আগ্রহী নন। নারী সাংবাদিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত হয়নি।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,  “গণমাধ্যম দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর বাইরে না। জনকল্যাণে অপরিহার্য পন্য – সংবাদ, তথ্য ও প্রতিবেদন, তথা পাবলিক গুড উৎপাদনকারী হিসেবে যেখানে সরকারের সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে স্বীকৃত হবার কথা, সেখানে দেশের সকল সরকার ধারাবাহিকভাবে গনমাধ্যমকে তাদের অন্যতম শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। যেকারনে মুক্ত গনমাধ্যম উপাযোগী সংস্কার দূরে থাক,  অন্তবর্তী সরকারের আমলে এক্ষেত্রে সংস্কারের নামে যা হয়েছে, বিশেষ করে সাইবার সুরক্ষা, ব্যাক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনার, ইত্যাদির নামে যে অধ্যাদেশ গুলো প্রনীত হয়েছে, তার ফলে সরকারের কর্তৃত্বে নজরদারি কাঠামো অধিকতর নিবর্তনমূলক হয়েছে। যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সার্বিকভাবে বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগ গভীরতর হয়েছে। তাই গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে যে অগ্রগতি নেই, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ দোসর ছিল গণমাধ্যম, অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যম আতœসমর্পন করেছে। অনেকে সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে গণমাধ্যমের ঘরের শত্রুর ভূমিকায় লিপ্ত হয়েছে। এতে করে গণমাধ্যমের  যারা পেশাগত দেউলিয়াপনার শিকার হয়েছে তাদের জন্য পুরো খাতের ওপর  জনআস্থাও ঝুঁকিতে পড়ছে। এজন্য আয়নার মুখোমুখি হয়ে আত্মজিজ্ঞাসা  গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ৫ আগস্ট ২০২৪  থেকেই সারাদেশে যে দলবাজি, দখলবাজি, ট্যাগিং, মামলা বাণিজ্য, গ্রেফতারবানিজ্য, তালিকা বানিজ্য হয়েছে এবং এতে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক শক্তি  যেমন জড়িত ছিল  তেমনিভাবে গণমাধ্যমের একাংশও ভূমিকা রেখেছে। যা জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে চলমান রয়েছে। বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদের বিকাশ হয়েছে দীর্ঘ প্রক্রিয়ায়। চর্চা হয়েছে জিরো সাম  গেইমের। ধারাবাহিক এ প্রক্রিয়া গত ১৫ বছরে  চূড়ান্ত বিকশিত হয়ে চোরতন্ত্র বা ক্লেপ্টক্রেসিতে পরিণত হয়েছে। পট পরিবর্তনের পর গনমাধ্যম সহ যারা নিজেদের বিজয়ী ভাবছেন। তাদের একাংশ ‘এখন আমাদের পালা’ – এই হীনমন্যতায় নিমজ্জিত হয়ে একই চর্চা বজায় রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।  সংস্কারের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল সেটিকে তাঁরাই  ধূলিস্যাতের ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়ছেন ।”

ইফতেখরুজ্জামান বলেন,  “গণমাধ্যমে সংস্কারের জন্য অনেককিছুই বাস্তবায়িত হয়নি এখনও। প্রতিটি সংস্কার কমিশনের আশু বাস্তবায়নযোগ্য অনেক সুপারিশ ছিল। সরকার নিজেরাই বলেছিলেন আশু বাস্তবায়নযোগ প্রস্তাবনার তালিকা তৈরি করে দিতে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। কোথায় প্রতিবন্ধকতা ছিল? সকলেই মুখে সংস্কার চায়। কিন্তু যারা সংস্কারের মূল চালিকাশক্তি হওয়ার কথা, তাদের ভেতরেই যে প্রতিরোধমূলক শক্তি নিয়ামকের ভূমিকায়  রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম আমলাতন্ত্র। সংস্কার হতে হলে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পাশাপাশি আমলাতন্ত্রেরও পরিবর্তন হতে হবে। সেটি নাহলে জনগণকে আবারো ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে নামতে হবে।”

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে টিআইবির দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৫ ঘোষণা করা হয়। এ বছর বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪ জন সাংবাদিক ও একটি প্রামাণ্য অনুষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। আঞ্চলিক সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন যশোরের দৈনিক গ্রামের কাগজের জ্যেষ্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক ফয়সল ইসলাম এবং নিজস্ব প্রতিবেদক আশিকুর রহমান শিমুল। জাতীয় সংবাদপত্র বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন ইংরেজি পত্রিকা দ্যা ডেইলি সান-এর জেষ্ঠ্য নিজস্ব প্রতিবেদক রাশেদুল হাসান। টেলিভিশন (প্রতিবেদন) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বিশেষ প্রতিবেদক (বর্তমানে চ্যানেল ওয়ানের ইনপুট প্রধান এবং পরিকল্পনা সম্পাদক) মুফতি পারভেজ নাদির রেজা। বিজয়ীদের প্রত্যেককে সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। টেলিভিশন (প্রামাণ্য অনুষ্ঠান) বিভাগে বিজয়ী হয়েছে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের প্রামাণ্য অনুষ্ঠান ‘সার্চলাইট’। এই প্রামাণ্য অনুষ্ঠানটি অনুসন্ধান ও উপস্থাপনা করেন সার্চলাইট টিমের সাবেক বিশেষ প্রতিবেদক (বর্তমানে স্টার নিউজ-এর বিশেষ প্রতিবেদক) মু. ফয়জুল আলম সিদ্দিক। বিজয়ী প্রামাণ্য অনুষ্ঠানটির জন্য সম্মাননাপত্র, ক্রেস্ট এবং এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার পুরস্কার প্রদান করা হয়।

এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  
©germanbanglanews24
Developer Design Host BD