বাংলাদেশ আজ গভীর নিরাপত্তাহীনতার মুখে দাঁড়িয়ে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বাসে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, ভাঙচুর এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনা প্রমাণ করে—রাষ্ট্র তার সবচেয়ে মৌলিক দায়িত্ব নাগরিকের জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—সে জায়গাতেই ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে নাগরিকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামতে শঙ্কিত, আর জরুরি রোগী পরিবহনের মতো মানবিক কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেবল বক্তব্যে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও বাস্তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
বাসে আগুন দেওয়ার মতো বড় ধরনের নাশকতা বারবার ঘটছে—এটি গোয়েন্দা ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ। সরকারের নানা দাবি সত্ত্বেও সন্ত্রাসীরা কীভাবে এত সহজে শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যেতে পারে? কোথায় সেই “জিরো টলারেন্স”? কোথায় সেই নজরদারি, সেই গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক? নাকি সরকার কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করেই দায় শেষ করেছে?
রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম শর্তই হলো—মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু আজ দেশের মানুষ দেখছে, সরকারের প্রশাসনিক দুর্বলতা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব, অনভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক হঠকারিতা কীভাবে সন্ত্রাসীদের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। যারা ক্ষমতায় আছে, তাদের কাছে জনগণের নিরাপত্তা যেন আর অগ্রাধিকার নয়; বরং ক্ষমতা রক্ষা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
একটি দায়িত্বশীল সরকার এমন পরিস্থিতিতে ব্যর্থতা স্বীকার করে স্বচ্ছ তদন্ত কমিটি গঠন করতো, নাশকতার উৎস চিহ্নিত করে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নিতো, এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহি করতো। কিন্তু তা নয়—এখন দেখা যাচ্ছে, সরকার শুধুই রাজনৈতিক দোষারোপের খেলায় ব্যস্ত। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীরা ছায়ায় থেকে যাচ্ছে, আর নিরপরাধ নাগরিকরাই ভুক্তভোগী হচ্ছেন।
বর্তমান নিরাপত্তাহীনতা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিচ্ছে—এই সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কিংবা সন্ত্রাস প্রতিরোধে পুরোপুরি ব্যর্থ। তাদের নেতৃত্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আজ ভেঙে পড়েছে, প্রশাসন সমন্বয়হীন, এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কার্যত হতবিহ্বল।
এখন সময় এসেছে সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার—ক্ষমতা ভোগ করার নামই সরকার নয়; প্রকৃত সরকারের কাজ হলো জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করা। যদি সেই মৌলিক দায়িত্বই পালন করা না যায়, তবে জনগণের কাছে এর জবাবদিহি থাকবেই। দেশবাসী নিরাপত্তা চায়, অজুহাত নয়। কার্যকর পদক্ষেপ চায়, রাজনৈতিক নাটক নয়।
দেশকে অরাজকতা থেকে রক্ষায় এখনই প্রয়োজন শক্তিশালী, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ। নইলে এই ব্যর্থতা আগামী দিনে আরও ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্ম দেবে—এর দায় বহন করতে হবে সরাসরি সরকারকেই।