মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যয় সাশ্রয় নীতির প্রভাব পড়ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ সহায়তা কমে যাওয়ায় জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে পরিচালিত ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনের এক-চতুর্থাংশ সেনা ও পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রায় ২৫ শতাংশ শান্তিরক্ষী সদস্য—যার সংখ্যা ১৩ থেকে ১৪ হাজারের মধ্যে—তাদের সরঞ্জামসহ নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। পাশাপাশি, মিশনভিত্তিক বেসামরিক কর্মীদেরও বড় অংশ এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা তহবিলের সবচেয়ে বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র, যারা মোট বাজেটের ২৬ শতাংশেরও বেশি অর্থ প্রদান করে। এরপরই রয়েছে চীন, যার অবদান প্রায় ২৪ শতাংশ। নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া ছিল ১.৫ বিলিয়ন ডলার; বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২.৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের একটি কিস্তি পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শান্তিরক্ষা বাজেট থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার একক সিদ্ধান্তে বাতিল করেছেন। তাঁর প্রশাসনের মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের “অতিরিক্ত সুবিধা” নিচ্ছে। এমন যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প সরকার বৈদেশিক সহায়তা খাতে ব্যাপক কাটছাঁট করেছে। এমনকি ২০২৬ সালের জন্য জাতিসংঘের পুরো শান্তিরক্ষা তহবিল বাতিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক সংকট বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিনিধি লুই চারবোনিউ সতর্ক করে বলেছেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।”
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান বলেন, “দক্ষিণ সুদানের মতো এলাকায় শান্তিরক্ষী হ্রাসের সিদ্ধান্ত ভয়াবহ বার্তা দেবে। যেখানে শান্তিরক্ষীরা এখনো বহু নিরীহ মানুষের একমাত্র আশ্রয়।”
বর্তমানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন চলছে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, গোলান হাইটস, আবেই এবং কাশ্মীরসহ বিশ্বজুড়ে ১১টি অঞ্চলে।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি।