তথাকথিত আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনাল থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়কে “পূর্বপরিকল্পিত, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অবৈধ” দাবি করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত স্বাধীনতা স্বপক্ষের প্রবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা
বাঙালিরা। তাদের অভিযোগ, এই রায় একটি স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার অংশ নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির দীর্ঘদিনের পরিকল্পনারই প্রতিফলন।

প্রবাসীদের দাবি, জাতি দীর্ঘদিন ধরেই বুঝে আসছে—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গঠিত এ আদালত তামাশার পর্যায়ে নেমে গেছে। বিচারকার্য পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তারা জামায়াত–শিবির ঘরানার সক্রিয় কর্মী। অভিযোগ ওঠেছে, প্রধান আইনজীবী তাজুল ইসলামও অতীতে জামায়াতের সহিংস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে এ আদালতের রায়কে ন্যায়বিচার নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার বলেই মনে করছেন অধিকাংশ প্রবাসী।
ফ্রাঙ্কফুর্টসহ জার্মানির বিভিন্ন শহরে প্রবাসীরা বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “এই আদালতের দেওয়া কোনও রায়ই জনগণ মানবে না।” তাদের দাবি, অবিলম্বে রায়টি অকার্যকর ঘোষণা করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বিচারকদের মাধ্যমে নতুন করে মামলা পুনর্বিবেচনা করতে হবে। তা না হলে বিশ্বব্যাপী বাঙালি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

রায়টি আন্তর্জাতিক মহলেও হাস্যকর ও প্রশ্নবিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রবাসীরা। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ রায়কে ‘অস্বচ্ছ ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করছে।
প্রবাসীদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকারকে দুর্বল ও উৎখাত করার বহিঃশক্তির দীর্ঘদিনের পরিকল্পনারই অংশ এই রায়। তারা মনে করেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রই নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে।
ফ্রাঙ্কফুর্টের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, “জননেত্রী শেখ হাসিনা বাঙালির আশা, গণতন্ত্রের প্রতীক। তার বিরুদ্ধে এই সাজানো রায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা কখনো মেনে নেবে না।”