আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অপেক্ষা করছে টানা চার দিনের ছুটি। নির্বাচনের দিন-তারিখকে ঘিরে সরকার যে ছুটি ঘোষণা করেছে, সেটি সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে গিয়ে তৈরি করেছে দীর্ঘ বিরতির সুযোগ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার ও ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার—দুই দিনকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নির্বাচন–পরবর্তী শুক্রবার ও শনিবার যথারীতি সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মোট চার দিনই কর্মমুক্ত থাকবেন সরকারি কর্মচারীরা।
এবারের নির্বাচনী ছুটি শুধু সরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক–কর্মচারীদের জন্যও ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে শিল্প-কারখানার শ্রমিকরা ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিনের ছুটি পাবেন। তবে মঙ্গলবারের (১০ ফেব্রুয়ারি) অতিরিক্ত ছুটি পরবর্তী সময়ে একদিন কাজের মাধ্যমে সমন্বয় করার সুযোগ থাকবে কারখানা মালিকদের জন্য।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকায় দেখা যায়—চলতি বছর মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। তবে এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে মিলে, ফলে অতিরিক্ত ছুটির প্রকৃত সংখ্যা কিছুটা কমে এসেছে।
ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটির ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছেমুসলিম কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ৫ দিন,হিন্দু কর্মচারীরা ৯ দিন,খ্রিস্টান কর্মচারীরা ৮ দিন,বৌদ্ধ কর্মচারীরা ৭ দিন,আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীরা ২ দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
সার্বিকভাবে, নির্বাচনকে ঘিরে ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয়ে সরকারি দপ্তরগুলোতে একটানা বিরতি তৈরি হয়েছে। আগাম পরিকল্পনায় অনেকই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও ভ্রমণ–সংক্রান্ত প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছেন।