চার দিনের সফরে মহাসচিব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকগুলোতে শান্তি, স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, সুশাসন ও উন্নয়ন সহযোগিতা—এসব বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের আগে বচওয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কমনওয়েলথের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম যে আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশ যুক্ত হয়, সেটিই কমনওয়েলথ। তাই এই অংশীদারত্ব ঐতিহাসিক এবং তা আরও প্রসারিত হওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সঙ্গে কমনওয়েলথের সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মহাসচিব এবার কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনার দিকনির্দেশনাও তুলে ধরবেন, যেখানে গণতন্ত্রকে তিনটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশের বাস্তব অবস্থা সরাসরি উপলব্ধি করতে বিভিন্ন পক্ষের মতামত সংগ্রহ করবেন এবং সেখান থেকে ভবিষ্যৎ সহায়তার খাত নির্ধারণ করবেন। তার মতে, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা।
মানবাধিকার, নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ অঙ্গীকার—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করে বচওয়ে জানান, বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে কমনওয়েলথের ওপর আস্থা রাখতে পারে। তিনি বাংলাদেশের জনগণকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আগাম শুভেচ্ছা জানান।
ঢাকায় নিযুক্ত কমনওয়েলথ ও বাংলাদেশ হাইকমিশন উভয়েই আশা করছে, এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। গণতান্ত্রিক রূপান্তর, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা, শিক্ষা ও উন্নয়ন সহযোগিতায় কমনওয়েলথের ভূমিকা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।