জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়সম্বলিত ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ ৩২ হাজার ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে ২ হাজার ২৯১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
রোববার পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনুস। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪টি নতুন প্রকল্প, ৬টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ৫টি মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে রয়েছে রাঙামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং মুন্সীগঞ্জে আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দুটি সংশোধিত প্রকল্প—চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তিবৃদ্ধিকরণ এবং পারকি এলাকায় পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, যুব ও ক্রীড়া, বস্ত্র ও পাট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ, কৃষি, পানি সম্পদ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, পুলিশ ও নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ, রেললাইন সম্প্রসারণ, যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, টেক্সটাইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বিকল্প শিক্ষা কার্যক্রম, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, কৃষি প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন রোধ ও পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
এছাড়া সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টার অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সম্বলিত ১০টি প্রকল্প একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন, ফায়ার সার্ভিস ও র্যাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম।
একই সঙ্গে একটি প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা’ রাখা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।